বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ০১:০৭ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
রাজশাহীতে সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ মোহনপুরে কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে এমপি আয়েন’র ইফতার আয়োজন রাজশাহীর মোহনপুরে মটর সাইকেল চোর আটক মোহনপুরে ভোটার বিহীন উপজেলা আ: লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলণের প্রস্তুতি রাজশাহীর মোহনপুরে দিনে দুপুরে চলছে পুকুর খনন নির্বাক প্রশাসন মোহনপুরে পরকীয়া করতে গিয়ে যুবক আটক মোহনপুরে ১৪৪০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক রাবি ক্যাম্পাসে ট্রাকচাপায় শিক্ষার্থী হিমেল নিহত, রাসিক মেয়রের শোক প্রকাশ ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন অফিসে ২৩ জন করোনায় আক্রান্ত বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ট্রান্সফরমার থেকে আগুনে পুড়েছে কৃষকের স্বপ্ন  রাসিক মেয়র লিটনের করোনা মুক্তি কামনায় সত্যের জয় সামাজিক সংগঠনের দোয়া মাহফিল রাজশাহীতে বিশিষ্টজনরা করোনা আক্রান্ত,বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবের সুস্থতা কামনা রাজশাহীতে বিশিষ্টজনরা করোনা আক্রান্ত,বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবের দোয়া মোনাজাত করোনা আক্রান্ত এমপি আয়েন, বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসি আরএমপি ডিবি’র অভিযানে ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার ১ রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল করোনায় আক্রান্ত মোহনপুরে কর্মরত এসআই ইব্রাহিম জেলার শ্রেষ্ঠ এসআই নির্বাচিত নাসিক নবনির্বাচিত মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে রাসিক মেয়র লিটনের অভিনন্দন রাসিক মেয়রের দ্রুত সুস্থ্যতা কামনায় রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের দোয়া মাহফিল অনার্স পড়ুয়া ভ্যানচালক ছাত্রের সাথে চাকুরীর নামে প্রতারণা
রাজশাহীর মোহনপুরে দিনে দুপুরে চলছে পুকুর খনন নির্বাক প্রশাসন

রাজশাহীর মোহনপুরে দিনে দুপুরে চলছে পুকুর খনন নির্বাক প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ রাজশাহীতে পুকুর খননের কারণে আবাদি জমি কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে। অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননের জন্য ধানের যে জমি কমেছে তার এক তৃতীয়াংশ জমি অনাবাদি হয়ে পরিত্যাক্ত জমিতে পরিণত হয়েছে। গত ১০ বছরে বােরাে ধানের জমি কমতে কমতে অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চল এক সময় বােরাে ধানের জন্য বিখ্যাত হলেও, এখন সেই খ্যাতি আর নেই। এতে প্রতিবছর খাদ্য খাটতি, খাদ্যের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি লেগেই থাকছে। কিন্তু তারপরও রাজশাহীতে ফসলি জমি বা বােরাে ধানের জমিতে পুকুর খনন বন্ধ করতে পারছেনা প্রশাসন। বর্তমানে রাজশাহীর খালে বিলে যেদিকে চোখ যায় শুধু বোরো জমিতে দেখা মেলে পুকুর আর পুকুর। এখন বোরো জমি বাদেও তিন ফসলি ও বিভিন্ন ফলদ বাগান ধ্বংস করে তা পুকুরে পরিণত করা হচ্ছে। ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশ তার ভারসাম্য হারাচ্ছে। যদিও পুকুর খনন বন্ধে আইন নেই। যার কারণে গত দশ বছর ধরে বরেন্দ্র অঞ্চলে চলছে পুকুর খননের হিড়িক। এই পুকুর খননের বিষয়ে জেলা প্রশাসন দুষছেন উপজেলা প্রশাসনকে, আবার উপজেলা প্রশাসন দুষছেন জেলা প্রশাসনকে। জেলা প্রশাসন থেকে বলা হচ্ছে সব ধরনের পুকুর খননের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞাজারী রয়েছে। তারপরও উপজেলা প্রশাসন ইউএনও’র মদদে ও তার উদাসিনতার কারণে কতিপয় ব্যক্তি ফসলী ও বােরাের জমিতে পুকুর খনন করছেন। এ ক্ষেত্রে আবার উপজেলা প্রশাসন, বলছেন থানার সহযােগিতায় পুকুর খনন করা হয়। আর পুকুর খননকারীরা বলছেন, পুকুর খনন করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। তারপর থানা শেষে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের টাকা দিতে হয়। প্রশাসনের সব দপ্তরে টাকা দেয়ার পর একটি পুকুর খনন শুরু করা যায়।

কৃষি অফিসের হিসাব অনুযায়ী রাজশাহীতে গত ১০ বছরে কমছে ৪৫০০ হেক্টর আবাদি জমি। জানা গেছে, এক সময় রাজশাহীর উত্তরের উপজেলা বাগমারা, দুর্গাপুর, পুঠিয়া, মােহনপুর, তানাের, গোদাগাড়ী, পবায় পুকুর খনন অব্যহত রয়েছে । গত ২মাস ধরে মোহনপুর উপজেলার বিদিরপুর বকপাড়ায় প্রায় ৭০ বিঘা আবাদী জমি ধ্বংস করে পুকুর খনন করতে রাজনৈতিক নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে বিদিরপুর বকপাড়ায় প্রায় ৭০ বিঘা জমিতে পুকুর খনন করা হচ্ছে। এবিষয়ে সরাসরি কথা বলা হয়, পুকুর খননে ভেকু আমদানিকারক (দালাল হিসাবে পরিচিত) পবা উপজেলার তকিপুর গ্রামের কহবতি মন্ডলের ছেলে তরিকুল ইসলামের সাথে। তিনি মােহনপুর উপজেলার বিদিরপুর বক পাড়ায় প্রায় ৭০ বিঘা জমিতে পুকুর খনন করছেন। তিনি বলেন, আমি বিগত দশ বছর থেকে পবা, মােহনপুর এলাকায় পুকুর খনন করে আসছি। বর্তমান মােহনপুরে আমার পুকুর খনন চলছে। তিনি বলেন, একটি পুকুর খনন করতে হলে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করে পুকুর খনন শুরু করতে হয়। এপুকুরটি খনন করতে আমি লাখ লাখ টাকা সুবিধা দিয়ে পুকুর খনন করছি। আপনারা জানেন সারা জেলায় পুকুর খনন বন্ধ থাকলেও আমি দিনে ও রাতে সমান তালে পুকুর খনন করে মহাসড়ক ব্যবহার করে মাটি পবা উপজেলায় বেশ কয়েকটি বড় বড় জায়গা ভরাট করছি। সাংবাদিকদের নিউজের কারণে দু’বার মোহনপুর ইউএনও স্যার আমার প্রজেক্টে এসে আমাকে পুকুর খনন বন্ধ করতে বলেছে। স্যার ভাল মানুষ তাই আমার কোন জরিমানা বা ক্ষতি করেনি। তিনি আরো বলেন, টাকা না দিয়ে পুকুর খনন করতে গেলে আসে বিভিন্ন বাঁধা। হয় জরিমানা ও ভেকু মেশিন ভাংচুর সহ ভেকু মেশিনের ব্যাটারী খুলে নেওয়া, তেলের ড্রাম উঠিয়ে নেয়া এসব উদ্ধার করতে অফিসকে দিতে হয় নগদ টাকা। কাকে কত টাকা দিয়ে পুকুর খনন করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন,ওটা গােপনীয় বিষয় বলা যাবে না। একই সাথে তিনি জেলা বা উপজেলা প্রশাসনকে টাকা দেয়ার বিষয়টিও অস্বীকার করেন। অন্যদিকে অপরদিকে ধুরইল ইউনিয়নে কাছিমালা গ্রামে মেম্বার আলমগীর নেতৃত্বে চলছে পুকুর খনন।
এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষে বলা হচ্ছে কঠোর নিষেধ আরােপ করা হলেও থামছে না পুকুর খনন। জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযােগ দেয়া হলে তারা উপজেলা প্রশাসনকে জানায়। কিন্তু পরে উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি কোনাে ধরনের গুরুত্ব দেয় না। এর কারণে জেলা প্রশাসনের নিদের্শনা থাকে উপেক্ষিত। এমন কি পুকুর খননের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের সাথে কথা বলা হলে তাঁরা বিষয়টি দেখছি, দেখবো এধরণের বক্তব্য দেন। আবার এও বলেন, কোথায় পুকুর খনন করা হচ্ছে আমরা জানি না। এই প্রথম শুনলাম। আপনি পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা দেন আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি। এই হলাে পুকুর খনন বন্ধে প্রশাসনের ভূমিকা!


রাজশাহী কৃষি অফিসের হিসাব অনুযায়ী, গত এক বছরে রাজশাহীতে পুকুর খননের জন্য বােরাের জমি কমেছে ৫শ’ ৯০ হেক্টের। গত বছর বােরাে ধানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৬৬হাজার ৭শ ৩২ হেক্টর। আর চলতি মওসুমে বােরাে ধানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৬হাজার ৬শ’ ৪০ হেক্টর। প্রতিবছর ৫শ’ থেকে ৭ হেক্টর জমি পুকুর খননের কারণে কমে যাচ্ছে।
সামনের বছরে বােরাে জমির পরিমান আরাে কমে আসবে

স্যোসাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights reserved © 2021 janatarkantho.com
ডিজাইন ও তৈরী করেছেন- হাবিবুর রহমান নীল